শনিবার, ৯ মার্চ, ২০১৩

পেশাদার লিগের জুনিয়র দলগুলোকে নিয়ে আয়োজিত গ্রামীণফোন অনূধর্ব-১৬ ফুটবলের চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান স্পোর্টি ক্লাব। ফাইনালে মুক্তিযোদ্ধাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তোলে সাদা-কালো জার্সিধারীরা।

শুক্রবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরুতে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলে মোহামেডান ও মুক্তিযোদ্ধার কিশোর ফুটবলাররা। অবশ্য প্রথম গোলের সুযোগ তৈরী করেছিল মুক্তিযোদ্ধাই। ২৭ মিনিটে প্রায় ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া স্ট্রাইকার ইব্রাহিমের শট দক্ষতার সঙ্গে প্রতিহত করেন মোহামেডান গোলরক্ষক পাপ্পু হাসান।

৩৬ মিনিটে ম্যাচে এগিয়ে যায় মোহামেডান। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে নেওয়া ফ্রিকিকে মুক্তিযোদ্ধার জালে বল জড়ান মিডফিল্ডার জিন্টু। বিরতির আগেই সমতায় ফিরতে পারত অলরেড জার্সিধারীরা। কিন্তু এবারও সুযোগ নষ্ট করে মুক্তিযোদ্ধা। স্ট্রাইকার আশিক সরকারের শট ক্রসবার ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।

৬০ মিনিটে গোলের ব্যবধান দ্বিগুন করেন মিডফিল্ডার রাজিব। স্ট্রাইকার সুজয়ের পাসে পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসা মুক্তিযোদ্ধা গোলরক্ষক নাজির হোসেন শাওনকে প্লেসিং শটে পরাস্ত করেন রাজিব (২-০)। ইনজুরি সময়ে মো. শাহিনের গোলে ৩-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে মোহামেডান। জিন্টুর পাসে শাহিনের প্রথম শটটি গোলরক্ষক শাওন গ্রিপে রাখতে ব্যর্থ হলে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় নিশানা ভেদ করেন এই মিডফিল্ডার।

ম্যাচ সেরা ও টুর্নামেন্ট সেরার পুরষ্কার পেয়েছেন যথাক্রমে মোহামেডানের রাজিব ও আতিকুজ্জামান। অপরদিকে প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন মুক্তিযোদ্ধার ইব্রাহিম।

 টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি লাভের পর মোহামেডান স্টপার আতিকুজ্জামান বলেন,‘দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এতেই আমি সবচেয়ে খুশি। সবাই আমাকে সাহায্য করেছেন। বিশেষ করে স্যার (কোচ জসিমউদ্দিন জোসি) অনেক পরামর্শ দিয়েছেন। আমি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ।’

মোহামেডানের ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূইয়াঁ জানান, ‘অনূর্ধ্ব-১৬’র শিরোপা জেতায় আমরা দারুণ খুশী। জুনিয়র দল গড়েছি শুধু এই টুর্নামেন্টকে লক্ষ্য করে নয়। এদের নিয়ে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

অনূর্ধ্ব ১৬ টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতে প্রিমিয়ার লিগে কখনো শিরোপা না জয়ের আক্ষেপ খানিকটা ঘুচাল মোহামেডান। জুনিয়রদের পারফরমেন্সে খুশী হয়ে ক্লাব কর্তৃপক্ষ পুরস্কার হিসেবে ২ লাখ এবং মোহামেডানের স্থায়ী সদস্য ও দলের সাবেক ফুটবলার সালাম মুর্শেদী আরো ২ লাখ টাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ফাইনাল শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ী ও বিজিতদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন